ঢাকা , বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে: নেতাকর্মীরা নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৩৭ ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও না পরেও না: প্রধান উপদেষ্টা শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের নৈরাজ্যের শিকার হয়ে একজন প্রাণ হারালেন গাজা গণহত্যার পুরো সময় ইসরায়েলকে অস্ত্র-অর্থ-গোয়েন্দা দিয়ে সহায়তা করেছে আরব আমিরাত বলিউডের 'নোংরা খেলা' নিয়ে কী বললেন তাপসী পান্নু গোমস্তাপুর সীমান্তে ১৭ জনকে পুশ-ইন প্যাকেটজাত খাবারের কিছু উপাদান অজান্তেই ক্ষতি করছে এন্ডোমেট্রিয়োসিস যন্ত্রণার! এড়াতে হলে মহিলাদের বদলাতে হবে ৩ অভ্যাস কক্সবাজারে ৪ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই পাচারকারী আটক ‘স্পিরিট’ ছবিতে প্রভাসের পারিশ্রমিক ১৬০ কোটি! ইরানে গণবিক্ষোভ: নিহত বেড়ে প্রায় ২৫০০! রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে মৃত্যু বেড়ে ৬ থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ক্রেন ভেঙে পড়ে নিহত ২২ বিজিবির ইতিহাসে রেকর্ড ৩ হাজার নবীন সদস্যের শপথ গ্রহণ সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউলের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ মুসলিম ব্রাদারহুডের তিন শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ট্রাম্প প্রশাসন মুসলিম ব্রাদারহুডের তিন শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ট্রাম্প প্রশাসন বছরের প্রথম ১০ দিনে আইসিই হেফাজতে চার অভিবাসীর মৃত্যু রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে শিমুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা, হাইকোর্ট

গাজা গণহত্যার পুরো সময় ইসরায়েলকে অস্ত্র-অর্থ-গোয়েন্দা দিয়ে সহায়তা করেছে আরব আমিরাত

  • আপলোড সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০১:২৮:৩০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০১:২৮:৩০ অপরাহ্ন
গাজা গণহত্যার পুরো সময় ইসরায়েলকে অস্ত্র-অর্থ-গোয়েন্দা দিয়ে সহায়তা করেছে আরব আমিরাত ছবি: সংগৃহীত
গাজায় চলমান যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে লোহিত সাগরে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার।

ফাঁস হওয়া একটি গোপন নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘এমিরেটলিকস’ নামের একটি অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম নথিটি সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেছে।

নথিটির তারিখ অক্টোবর ২০২৩। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ অভিযান কমান্ডের উদ্দেশে লেখা। নথিটির লেখক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের নাম। তিনি আল-ধাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি ও ইউএই রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।

নথির শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার’ প্রেক্ষাপটে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ‘ঐতিহাসিক চুক্তির’ আলোকে ইসরায়েলকে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, যৌথ অভিযান কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থিত ইউএই সামরিক ঘাঁটিগুলো,  যেমন- ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আল-মোখা, ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব এবং সোমালিয়ায় থাকা ঘাঁটিগুলো—ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিশেষ করে ইয়েমেনে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা দিয়ে প্রস্তুত করার কথা এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলকে শক্তিশালী করা’ এবং ‘সন্ত্রাসীরা পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত’ এই সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ‘সামাজিক সংহতি’ বাড়াতে তথাকথিত ‘কমিউনিটি উদ্যোগ’ চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান এবং সামরিক প্রযুক্তি’ ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ, সমন্বিত ও সমন্বয়পূর্ণ’ সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান। এতে নিশ্চিত করা হয়েছে, ইসরায়েলকে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে।

নথির একটি অংশে কাতারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে হামাসকে কাতারের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কুয়েতও ‘কাতারের সঙ্গে মিলিত হয়ে’ ফিলিস্তিনে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোকে ‘বিপুল আর্থিক সহায়তা’ দিচ্ছে। এটিকে ইউএইর রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে এবং কুয়েতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ‘স্পষ্ট বিরোধিতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে ইউএইর পূর্ববর্তী সম্পর্ক এমন যে, তা দেশটিকে সহযোগিতা ও সংকট–সচ্ছলতা উভয় সময়েই পাশে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএই ও ইসরায়েলের মধ্যে সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ২০২০ সালের ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’র পর থেকে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইউএই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করতে চাপ দিয়ে আসছে।

এর আগেও, ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধ শুরুর পরবর্তী সময়ে, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইয়েমেনের বিভিন্ন বন্দর, দ্বীপ ও নৌপথে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে ইউএই সেনাবাহিনী। একইভাবে সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকাতেও ইউএই সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।

গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে আবুধাবি ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে ইউএই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আরব বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবেও বিবেচিত।

২০২৪ সালে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘বালকান ইনসাইট’ প্রকাশ করে, ইউএই–সংযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ইয়ুগোইমপোর্ট–এসডিপিআর সামরিক বিমানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের অস্ত্র ইসরায়েলে রপ্তানি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অস্ত্র সরাসরি গাজায় চলমান গণহত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউএইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাবেক মোসাদ প্রধানের সহ-প্রতিষ্ঠিত সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএম সাইবারের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যার লক্ষ্য জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এক্সএম সাইবার ইসরায়েলের শীর্ষ সামরিক প্রতিষ্ঠান রাফায়েলসহ অন্যান্য এলিট প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে একটি কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে কাজ করছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সংবেদনশীল জ্বালানি, তেল ও তথ্যখাতকে লক্ষ্য করে।

এদিকে ইউএইর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা জোট ‘এজ’ ইসরায়েলের শীর্ষ অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রাফায়েল ও ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)-এর শেয়ার ধারণ করে বলেও নথি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে: নেতাকর্মীরা

মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে: নেতাকর্মীরা